অনুচ্ছেদ - ১ ধারা : প্রস্তাবনা :
সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অযুত প্রাণের মূল্যে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পেয়েছে। কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে এদেশের মানুষ সেই অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকার করেছে সে প্রত্যাশা আজও অপূর্ণই থেকে গেছে। গত ৫১ বছরের যারা এদেশের শাসন ক্ষমতায় থেকেছেন তারা এদেশের মানুষকে চরমভাবে হতাস করছেন। রাষ্ট ক্ষমতাকে নির্লজ্জভাবে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাষ্টীয় সম্পদের বেপরোয়া লুন্ঠন চলেছে। জাতীয় রাজনীতিকে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে পারিবারিক সংকীর্ণ গন্ডীর নিষ্ঠুর যাঁতাকলে। রাষ্টের প্রায় সব কটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় করণ করে গোটা রাষ্ট ব্যবস্থাকে ক্ষমতাসীন চক্রের স্বার্থ হাচিলের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ক্ষমতা চীরস্থায়ীভাবে কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিনত করা হয়। যার পরিনামে দুই বিবাদমান পক্ষের নিষ্ঠুর সংঘাতে সূষ্টি হয়েছিল এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। জাতি নিক্ষিপ্ত হতে চলেছিল এক ভয়ংকার গৃহযুদ্ধে।
এই পরিস্থিতে দেশের সর্ব শ্রেণীর মানুষের ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতফলনে সুধীসমাজ ও দেশ প্রেমিক সশাস্ত্রবাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে জাতি সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেয়েছে। জাতি আজ দুর্নীতি অপশাসন থেকে মুক্তি চায়। ফিরে যেতে চায় না পরিবারতন্ত্র এবং দুঃশাসনের দিনগুলিতে। এই ক্রান্তিকালের অর্জনকে ধরে রাখা আজ জাতির সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
সেই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই আজ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে পুরানো ধারার রাজনীতিকে পিছনে ফেলে একটি নতুন রাজনীতির দ্বার উন্মোচন, যে রাজনীতি হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন, যে রাজনীতি সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠিত করবে। যে রাজনীতি বাংলাদেশকে বিশ্বমানচিত্রে একটি মর্যাদাবান ও অগ্রবর্তী জাতি-রাষ্টের মর্যাদয় অভিষিক্ত করবে। সেই অভীষ্ট লক্ষ অর্জনের জন্য আজ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সময়ের দাবি মেটাবার মত একটি নতুন রাজনৈতিক দলের।
অনুচ্ছেদ ২ ধারা : দলের নাম :
প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, সংক্ষেপে পিডিপি, ইংরেজীতে Progressive Democratic Party-PDP
অনুচ্ছেদ ৩ ধারা : দলের লক্ষ্য ও কর্মসূচী :
সংক্ষেপিত, পূর্ণ বিবরণের জন্য দলের ঘোষণাপত্র দেখুন
অনুচ্ছেদ ৩.১ ধারা : সার্বিক জাতীয় ঐক্য :
জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় পরিচিতি নিয়ে অহেতুক বির্তকের অবসান ঘটিয়ে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল অংশকে সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সুসংহত জাতিসত্ত নির্মাণ । সেজন্যই প্রয়োজন আনুপাতিক হারে নির্বাচন ।
অনুচ্ছেদ ৩.২ ধারা : ভারসাম্যময় সরকার পদ্ধতি :
বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে সার্বভৌম জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা এবং পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদকে কার্যকর ও অর্থবহ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা । প্রয়োজন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পালার্মেন্ট, জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যাবৃদ্ধি ।
অনুচ্ছেদ ৩.৩ ধারা : গণমুখি অর্থনীতি :
সম্পদের সুষম বন্টন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে জাতীয় অর্থনীতিকে সামগ্রিকভাবে গণমুখি করা, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে একটি আধুনিক প্রযুক্তিমনস্ক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা । ডিজিটাল পদ্ধতিতে উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন ।
অনুচ্ছেদ ৩.৪ ধারা : তৃণমূল গণতন্ত্র :
জনপ্রশাসন তথা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হবে প্রশাসনের সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারসমূহের ক্ষমতায়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা । একাধিক প্রদেশ এবং বিভাগ সৃষ্টি করা ।
অনুচ্ছেদ ৩.৫ ধারা : সার্বজনীন শিক্ষা :
জাতি গঠন ও উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে সার্বজনীন কাঠামোতে সুবিন্যস্ত করা যাতে করে প্রতিটি মানুষ শিক্ষা লাভে সমসুযোগ লাভ করে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি এমনভাবে ঢেলে সাজানো যাতে করে জাতির আগামী প্রজন্ম একক জাতীয় ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশালী জাতিসত্ত বিকশিত হয় । বহুমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাধ্যতামূলক সাবজনীন শিক্ষা ।
অনুচ্ছেদ ৩.৬ ধারা : জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ :
বিশ্বজনস্বীকৃত সকল মৌলিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন ও তার বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সাথে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ ।জনগনের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিভাগীয় পর্যায় হাই কোট স্থাপন এবং মানবাধিকার সুরক্ষা ।
অনুচ্ছেদ ৩.৭ ধারা : সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক :
বিশ্বের সকল দেশের সাথে বিশেষত প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্র ও জাতিসত্তার সাথে সার্বভৌম সমতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে অকৃত্রিম বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা ।
অনুচ্ছেদ ৩.৮ধারা : সুদৃঢ় জাতীয় প্রতিরক্ষা :
জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা যেন জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চির-সুরক্ষিত থাকে ।
অনুচ্ছেদ ৩.৯ ধারা : প্রযুক্তি সম্পর্কে উন্নয়ন কৌশল :
জাতীয় উন্নয়ন কৌশল হবে ভবিষ্যৎমুখি ও প্রযুক্তি চেতনাসমৃদ্ধ, যার লক্ষ্য হবে লাগসই প্রযুক্তি অন্বেষা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ।
অনুচ্ছেদ ৩.১০ ধারা : সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার স্বাক্ষর :
বাংলা ভাষা ও আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিকশিত করে দুনিয়ার বুকে নিজস্ব জাতিগত পরিচয়কে গৌরবের সাথে তুলে ধরা ।
অনুচ্ছেদ ৪ ধারা : দলীয় পতাকা :
পতাকার নিচের সবুজ জমিন সবুজ শ্যামল বাংলার প্রতীক । উপরের অংশে আকাশী নীল শান্তির প্রতীক, হলুদাংশ তারুণ্যের প্রতীক এবং মাঝখানের রক্তিম সূর্য মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ।
অনুচ্ছেদ ৫ ধারা : দলের মনোগ্রাম :
মনোগ্রাম-এর বৃত্তের ভিতরে সবুজ জোড়া পাতা সৃষ্টি, ভবিষ্যৎমুখী, সৃজনশীলতা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক। উপরের গোলাকার রক্তিম সূর্য মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
অনুচ্ছেদ ৬ ধারা : দলের নির্বাচনী প্রতীক :
প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল পিডিপি’র নির্বাচনী প্রতিক হবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার খ্যাত বাংলার গর্বিত প্রতিক “বাঘ”। তবে পিডিপি মনে করে কোন রাজনৈতিক দলের “স্থায়ী নির্বাচনী প্রতিক” বিকশিত গণতন্ত্রের পরিপন্থী ।
অনুচ্ছেদ ৭ ধারা : দলের সাংগঠনিক কাঠামো :
দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে জাতীয় কাউন্সিল থেকে শুরু করে ইউনিয়ন কমিটি পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের দলীয় কমিটি সমূহের স্তর বিন্যাস নিম্নরুপ হবে ।
ক . জাতীয় কাউন্সিল
খ . জাতীয় কমিটি
গ . উপদেষ্টা কমিটি
ঘ . স্থায়ী কমিটি
ঙ . কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটি
চ . বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি
ছ . মহানগর/জেলা কমিটি/প্রবাসী কমিটি
জ . উপজেলা কমিটি
ঝ . ইউনিয়ন কমিটি
ঞ . অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠন কমিটি
অনুচ্ছেদ ৮.১ ধারা : জাতীয় কাউন্সিলের গঠন :
উপজেলা কমিটি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক বিভাগীয় সহ মহানগর কমিটি পর্যন্ত সকল কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যবৃন্দ নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে । এছাড়া জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য বলে গণ্য হবে ।
অনুচ্ছেদ ৮.২ ধারা : কাউন্সিলের দায়িত্ব ও ক্ষমতা :
ক . দলের নীতি ও কমৃসূচি বাস্তবায়ন
খ . দলের চেয়ারম্যান নির্বাচন
গ . দলের কমিটিসমূহ নির্বাচন
ঘ . মহাসচিবের রিপোর্ট বিবেচনা ও গ্রহণ
ঙ . জাতীয় কাউন্সিলের তিনভাগের এক ভাগ (এক তৃতীয়াংশ) সদস্যের সহমতে পৌছানো বিষয়গুলো বিবেচনা ও সম্পাদন করা
চ . প্রতিবছর একবার দলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে
অনুচ্ছেদ ২ ধারা : দলের নাম :
দলের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি জাতীয় কমিটি থাকবে । কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি , জাতীয় স্থায়ী কমিটি , কেন্দ্রীয়
উপদেষ্টা কমিটি ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যবৃন্দ , পদাধিকার বলে জাতীয় কমিটির সদস্য হবেন । বাকী সদস্যবৃন্দ চেয়ারম্যান/মহাসচিব কর্তৃক মনোনীত হবেন ।
অনুচ্ছেদ ৯.খ ধারা : জাতীয় কমিটির কাজ :
এ কমিটি ন্যূনতম বছরে একবার সভায় মিলিত হবে । পদাধিকার বলে দলের চেয়ারম্যান সভায় সভাপতিত্ব করবেন । জাতীয়
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু , দলের হাই কমান্ড জাতীয় স্থায়ী কমিটি , উপদেষ্টা কমিটি সহ সকল কমিটির সদস্য সামগ্রিক কর্মপন্থা ও সাংগঠনিক আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নিকট সুপারিশ পেশ করবেন ।
অনুচ্ছেদ ১০.ক ধারা : জাতীয় স্থায়ী কমিটি :
সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে দলে একটি স্থায়ী কমিটি থাকবে । স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে সর্বনিম্ন ১০ জন ও সর্বোচ্চ ১৫ জন । দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য হবেন । এক . সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে এই কমিটি দলের নীতি ও কর্মসূচি , ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা উপ-ধারার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে কোন জটিলতা দেখা দিলে তা ঠিক করবে এবং এই কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে । দুই . এই কমিটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন কাজ হচ্ছে দলের শৃঙ্খলা , সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া । কোন সদস্য দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি-আদর্শের বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হলে তার সদস্যপদ স্থগিত করে তাকে দলীয় পদ থেকে অপসারণ কিংবা অন্য কোন শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা তা প্রত্যাহার করে নিতে পারবে । তিন . দলের চেয়ারম্যান/মহাসচিব আলোচনা সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যক্তিদের স্থায়ী কমিটি সহ কমিটির যে কোন শুন্যপদে দায়িত্ব প্রদান করিবেন । চার . স্থায়ী কমিটির মেজরিটির প্রস্তাবাবলী সিদ্ধান্ত আকারে গৃহিত হইবে । পাঁচ . প্রতি তিন মাসে স্থায়ী কমিটির সভা আহবায়ন ছাড়াও চেয়ারম্যান যে কোন সময় সভা আহবান করতে পারবেন ।
অনুচ্ছেদ ১০. খ ধারা : উপদেষ্ঠা কমিটি :
দলকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচালিত করার লক্ষ্যে চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটিকে সাবির্ক ভাবে দিকনিদের্শনার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করবেন উপদেষ্টা কমিটি । উপদেষ্ঠা কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ০৫ থেকে ১৫ জন । উপদেষ্ঠা সদস্যরা সমপোযোগী কর্মসূচী প্রণয়ন , কুটনীতি সম্পর্ক ও নীতিমালা প্রণয়নে কমিটিকে পরামর্শ প্রদান করিবেন । দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে দলের চেয়ারম্যান জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে দলীয় নীতি - আর্দশের প্রতি অনুগত এবং দলের নীতি নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন এরূপ ব্যক্তিদের এই কমিটিতে নিয়োগ দেবেন । কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর কাজের পরিধি উপদেষ্টাগণ হবেন প্রধানত বিশেষজ্ঞ ও চিন্তাবিদ । তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও হতে পারেন । তবে সাধারণভাবে বিজ্ঞানী , প্রয়োগিক গুরুত্ব আছে এরূপ বিষয়ের সফল গবেষক , সৃজনশীল , উচ্চপেশাদারী ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্নব্যক্তি , চিকিৎসক , প্রকৌশলী , রাষ্ট্র ও সমাজ বিজ্ঞানী , শিল্পী - সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের নিয়ে উপদেষ্ঠামন্ডলী গঠিত হবে । বিজ্ঞান - প্রযুক্তি , কৃষি , শিল্প , পরিবেশনীতি আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য , আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ে দলের নীতি নির্ধারণে তাঁদের পরামর্শ নেয়া হবে । সাধারণ অবস্থায় বছরে ন্যূনতম ৩ (তিন) বার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলী সভায় মিলিত হবে । দলের চেয়ারম্যান এতে সভাপতিত্ব করবেন ।
অনুচ্ছেদ ১১ ধারা : কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি :
দলের একটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি থাকবে । এই কমিটি হবে দল পরিচালনায় সর্বোচ্চ কমিটি ।
অনুচ্ছেদ ১১.১ ধারা : কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গঠন :
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গঠন নিম্নরুপ হবে :
| চেয়ারম্যান - | ১ জন | | | | | | | | |
| কো-চেয়ারম্যান - | ১ জন | | | | | | | | |
| ভাইস-চেয়ারম্যান - | ১০ থেকে ১৫ জন | | | | | | | | |
| মহাসচিব - | ১ জন | | | | | | | | |
| যুগ্ম মহাসচিব - | ৫ থেকে ৭ জন | | | | | | | | |
| অর্থ সচিব - | ১ জন | | | | | | | | |
| সাংগঠনিক সম্পাদক - | ৭ থেকে ১০ জন | | | | | | | | |
| সম্পাদক মন্ডলী - | ৩৬ জন | | | | | | | | |
| সম্মানিত সদস্য - | ১৮৫ জন | | | | | | | | |
| সর্বমোট - | ২৫১ জন | | | | | | | | |
প্রতিটি জেলা ও মহানগর / বিভাগীয় সমন্বয়ক , সভাপতি / সম্পাদক পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হবেন ।
০১ . চেয়ারম্যান :
দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান । তিনি হবেন দলের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা । তিনি সরাসরি দলীয় কাউন্সিলদের ভোটে ০৩ (তিন) বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন । চেয়ারম্যান দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী দলের সামগ্রিক কার্যক্রম তদারক করবেন । তিনি দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল , কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি , জাতীয় কমিটি ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন । দলের কোন কর্মকর্তা বা কোন কমিটির কাজ তাঁর কাছে দলের জন্য ক্ষতিকর মনে হলে কিংবা দলের গঠনতন্ত্র বা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে না হলে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কৈফিয়ৎ তলব করতে পারবেন কিংবা সংশ্লিষ্ট কমিটি বা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন । জরুরি প্রয়োজনে তিনি বিভিন্ন উপ-কমিটি অথবা সাময়িক দায়িত্ব প্রদান করতে পারবেন এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা স্থায়ী কমিটি অনুমোদন সাপেক্ষে যে কোন বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবেন ।
০১ . (ক) কো-চেয়ারম্যান :
চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন কো-চেয়ারম্যান । তিনি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে স্থায়ী কমিটি , উপদেষ্টা কমিটি ও কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতিত্ব করবেন । তিনি স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত গুলি বাস্তবায়ন করবেন ।
০২ . ভাইস-চেয়ারম্যান :
ভাইস-চেয়ারম্যানগণ দলীয় চেয়ারম্যানকে তাঁর দায়িত্ব সম্পাদনে সহায়তা করবেন । চেয়ারম্যানের এবং কো-চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে জেষ্ঠ্যতার ক্রমানুসারে একজন ভাইস-চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ।
০৪ . যুগ্ম-মহাসচিব :
দলের একজন মহাসচিব থাকবেন । তিনি হবেন দলের প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা । তিনি দলের নির্বাহী কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে ৩ (তিন)বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবেন । তিনি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শক্রমে নির্দেশক্রমে অথবা দলের জাতীয় কাউন্সিল , বিশেষ কাউন্সিল , জাতীয় কমিটি , কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সভা , জরুরি সভা , বিশেষ সভা এবং গঠনতন্ত্রে বর্ণিত অন্যান্য সভা আহবান করবেন । তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন । দলের শৃঙ্খলা বিরোধী অনৈতিক কার্যকলাপ , স্বাধীনতা বিরোধী , রাষ্ট্রদ্রোহী , সংগঠন বিরোধী যে কোন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানকে অবহিত করে তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন । তিনি দলের যাবতীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন । মহাসচিব দলের সাংগঠনিক কমিটি অনুমোদন দিবেন এবং স্থায়ী কমিটির সভায় বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করিবেন । তিনি সম্পাদক মন্ডলীর সভায় সভাপতিত্ব করবেন ।
০৩ . মহাসচিব :
যুগ্ম-মহাসচিবগণ মহাসচিবকে তাঁর দায়িত্ব সম্পাদনের সহায়তা করবেন । মহাসচিব কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনে তারা সচেষ্ট থাকবেন । সঙ্গত কারণে মহাসচিবের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘটলে যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে একজন কে সাময়িক ভাবে দায়িত্ব প্রদান করবেন ।
০৫ . অর্থ সম্পাদক :
দলের তহবিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন , ব্যাংক হিসাব রক্ষনাবেক্ষন করবেন । আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখবেন এবং চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পরামর্শক্রমে দলের ফান্ড অডিট করবেন এবং দলের চেয়ারম্যান , মহাসচিব ও অর্থ সম্পাদকের সমন্বয়ে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হইবে । যে কোন দুইজনের স্বাক্ষরে ব্যাংক লেনদেন সম্পন্ন হইবে । চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান ব্যাংক হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে অন্তর্ভূক্ত হবেন ।
০৬ . সাংগঠনিক সম্পাদক :
দলের প্রতিটি সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন ১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক । ১ (এক) জন কেন্দ্রীয় বিষয়াদি দেখবেন । সংগঠনের বিস্তার , সাংগঠনিক নৈমিত্তিক কার্যক্রম দলের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রচার এবং দলে প্রাথমিক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত সকলের নাম ঠিকানা সম্বলিত রেজিষ্ট্রার সংরক্ষণ করবেন । সদস্য সংগ্রহ করবেন এবং কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করবেন ।
০৭ . দফতর সম্পাদক :
একজন দফতর সম্পাদক থাকবেন । তিনি দলের সকল প্রকার ডকুমেন্ট , নথি , দলিল-দস্তাবেজ এবং সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক তথ্যাবলী আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করবেন যাতে করে দলের যে কোন প্রয়োজনে তাৎক্ষনিকভাবে যে কোন তথ্য সরবরাহ করা যায় ।
০৮ . সহ-দফতর সম্পাদক :
১ (এক) জন । সহ-দফতর সম্পাদক দাফতরিক কাজে দফতর সম্পাদককে সহায়তা করবেন ।
দফতর সম্পাদক ব্যতীত বাকি সকল সম্পাদক তাঁকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তার জন্য দলের চেযারম্যানের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনে এক বা একাধিক সহকারী নিয়োগ করতে পারবেন ।
০৯. প্রচার সম্পাদক :
১ (এক) জন প্রচার সম্পাদক থাকবেন । দলের আদর্শ , নীতি , কর্মসূচি , কর্মকান্ড এক কথায় সামগ্রিকভাবে দলকে কিভাবে নিরন্তর জনসম্মুখে তুলে ধরা যায় সে ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ , বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও যোগাযোগ আরো বিস্তৃত করা এবং পোষ্টার , ব্যানার ও ফেষ্টুন সহ যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে দলকে সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করবেন ।
১০ . আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমমনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা , সেসব দলের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সাথে সংহতি জ্ঞাপন , আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরা , অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী দিয়ে দলকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করবেন ।
১১ . আইন বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । দলীয় কর্মীদের আইনগত সমস্যার আইনি সহায়তা প্রদান , দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখা এবং দলকে অবগত করা , দেশের বিচার ব্যবস্থার সুষ্ঠু বিকাশ ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনজীবিদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন ।
১২ . সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । তিনি দলীয় উদ্যোগে সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং সমাজের কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে দলীয় কর্মী ও সমাজের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন ।
১৩ . ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । দলীয় উদ্যোগে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন প্রকারের ক্রীড়া ও এথলেটিক্সের আয়োজন এবং যুব সমাজের মধ্যে ক্রীড়া বিস্তারের উৎসাহ প্রদান করা তাঁর কাজ ।
১৪ . শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । শিক্ষার প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত নীতি , পদ্ধতি ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে দলকে অবহিত করা এবং তা সমাধানে কর্মপন্থা তৈরি করবেন । এছাড়া একটি যুগোপযুগী শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে দলের ঘোষিত নীতি ও আদর্শের প্রতি জনমত তৈরিতে উদ্যোগ নেবেন ।
১৫ . সাংস্কৃতিক সম্পাদক :
১ (এক) জন । জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ , সুরক্ষা এবং আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনের মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ইতিবাচক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে দলের গঠনমূলক ভূমিকা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবেন ।
১৬ . কৃষি বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । দেশের কৃষির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তথ্যাদি সংরক্ষণ , কৃষির বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সম্পর্কে দলকে অবহিতকরণ , তা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ প্রণয়ন , আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন কৃষি গবেষণার প্রতি নজর রাখা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নীতি-কৌশল নির্ধারণ প্রভৃতি কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব ।
১৭ . শিল্প বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । শিল্পের ব্যাপারে দলে ঘোষণাপত্রের আলোকে দেশের শিল্প ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাবলী চিহ্নিতকরণ ও তা দূর করে শিল্প খাতের উত্তরোত্তর বিকাশের রূপরেখা প্রণয়ন এবং কর্মসূচি গ্রহণ শিল্প বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব ।
১৮ . পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । মানুষের অস্তিত্ব ও জীবনবৈচিত্র্য রক্ষায়
পরিবেশের ভারসাম্যের বিষয় এখন দুনিয়া ব্যাপী আলোচিত হলেও দেশের অভ্যন্তরে বন সম্পদ উজাড় , পাহাড় কেটে বসত-বাড়ি তৈরি , নদ-নদী দখল , নদী রক্ষা , পানি , বায়ু দূষণের মতো পরিবেশ বিপর্যয়কারী ধ্বংসাত্মক কাজ প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে । এ ব্যাপারে জনসচেতনতার যেমন অভাব রয়েছে তেমনি সরকারেরও উদাসীনতা আছে । বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করে এ সবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব ।
১৯ . শ্রম বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । দেশের শ্রম-বাজারের প্রকৃত চিত্র অনুধাবন বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ , দেশে কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা , আবাসস্থল, প্রভৃতি বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে দলকে সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ শ্রম সম্পাদকের দায়িত্ব ।
২০ . মহিলা বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। দলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যাপক সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা , তাঁদের দলীয় আদর্শ ও রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ , নারী অধিকার আদায়ে নানামুখি কার্যক্রম গ্রহণ , বিভিন্ন নারী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা , সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নারী অধিকার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রভৃতি মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব ।
২১ . ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক :
১ (এক) জন । প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগে দল যাতে দ্রততার সাথে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং জনগণও যেন বিপদে আপদে দলের উপর ভরসা করতে পারে সে লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ ও পুণর্বাসন সম্পাদক ভূমিকা পালন করবেন ।
২২ . মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এখনও যারা বেঁচে আছেন তাঁদের সংগঠিত করা, যুদ্ধাহতদের প্রতি রাষ্ট্র সঠিক দায়িত্ব পালন করছে কিনা সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা , এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব ।
২৩ . বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন সংযোজন ও আবিষ্কার সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা এবং তা আমাদের দেশে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন এ সম্পাদকের দায়িত্ব ।
২৪. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক :
১ (এক) জন । তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কৃষি , শিল্প , শিক্ষা , স্বাস্থ্য প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্ব ।
২৫. স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। সারাদেশে যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে কি না , এখাতে সরকারি বরাদ্দ ও সে বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও এ ব্যাপারে দলকে অবহিত করা এ সম্পাদকের দায়িত্ব ।
২৬ . প্রকাশনা সম্পাদক :
১ (এক) জন। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও দলীয় দিবসে বিভিন্ন ধরনের সাময়িকী , দলের বার্ষিক ও ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের প্রতিবেদন ও মহা-সচিবের রিপোর্টসহ বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করবেন প্রকাশনা সম্পাদক ।
২৭ . ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। দেশের ছাত্র সমাজকে একদিকে রাজনীতি ও অধিকারে সচেতন অন্যদিকে সৃজনশীল ও দেশগঠনে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ব্যাপারে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণে ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক ভূমিকা পালন করবেন ।
২৮ . অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির প্রতি তীক্ষ দৃষ্টি রাখা , অতীত সরকারগুলো কর্তৃক গৃহীত অর্থনৈতিক নীতির পর্যালোচনা , বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অপরাপর দেশের গৃহীত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক নীতির মূল্যায়ন এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল ঠিক করা ।
২৯ . যুব বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । দেশ গড়ার কাজে যুবসমাজকে সংগঠিত করা যুববিষয়ক সম্পাদকের কাজ । এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন যুব সংগঠনের সাথে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং সংহতি স্থাপনে ভূমিকা রাখবেন ।
৩০ . ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । বিভেদ ও বিভাজনের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে দেশে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রাখতে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন ।
৩১ . ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর বিদ্যমান সমস্যা , আবেগ - অনুভূতির সাথে পরিচিত হওয়া এবং দলকে পরিচিত করানো , তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং তাদেরকে বেশি করে দলের সাথে যুক্ত করা প্রভৃতি এই সম্পাদকের দায়িত্ব ।
৩২ . মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন । মানবাধিকার সম্পাদকের দায়িত্ব
দেশের অভ্যন্তরে কোথায়ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটেছে কিনা এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা । দেশের অভ্যন্তরেই কেবল নয়, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়েও তাঁকে খোঁজ-খবর রাখতে হবে এবং দলের পক্ষ থেকে উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে ।
৩৩ . গণশিক্ষা সম্পাদকঃ
১ (এক) জন। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে দলীয় উদ্যোগে গণশিক্ষা কার্যক্রম কিভাবে জোরদার করা যায় এবং সরকারি বেসরকারি সংস্থাকে এ ব্যাপারে উৎসাহী করা যায় এ ব্যাপারে গণশিক্ষা সম্পাদক প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবেন ।
৩৪ . স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক :
১ (এক) জন। একদল তরুণকে নিয়ে একটা সুশৃংখল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলার ব্যাপারে এ সম্পাদক ভূমিকা পালন করবেন ।
৩৫. মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। মৎস্যজীবীদের পেশাগত সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে তাদেরকে সংগঠিত করা মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদকের কাজ ।
৩৬ . তাঁত বিষয়ক সম্পাদক :
১ (এক) জন। আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের পুনরুদ্ধারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁত শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ করে এ শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানো তাঁতী বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকবে ।
অনুচ্ছেদ ১২ ধারাঃ আন্তর্জাতিকঃ
দেশের বাহিরে যে কোন দেশে দলীয় সংগঠন মেনে চলে পিডিপি’র কমিটি গঠন করা যাবে । এই সব কমিটি জেলা কমিটির মর্যাদা লাভ করবে ।
অনুচ্ছেদ ১৩ ধারা : কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলী :
মহাসচিব , যুগ্ম-মহাসচিবগণ ও বিভাগীয় সম্পাদকের নিয়ে সম্পাদকমন্ডলী গঠিত হবে । দলের মহাসচিব কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সভায় সভাপতিত্ব করবেন ।
১৩.১ কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর কাজের পরিধি :
কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলী দলের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি দ্রততার সাথে ও যথাসময়ে বাস্তবায়নের ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করবে । কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলী সুনির্দিষ্টভাবে নিম্নলিখিত কাজগুলি করবে :
১ . দলের বিভিন্ন স্তরে কমিটি সমূহ ও কর্মকর্তাদের উপর প্রদত্ত দায়িত্ব কর্তব্য নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন ।
২ . দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্দেশ প্রদান ।
৩ . বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপিত হলে কমিটিসমূহের মধ্যে বিরোধের মীমাংসা এবং অনুমোদন দিবেন ।
৪ . দলের অংগ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনসমূহের কার্যকলাপ তদারক ও সে গুলিকে দলের নীতি আদর্শ ও স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখা ।
৫ . দেশ ব্যাপী দলের সাংগঠনিক কমিটি গঠনে সক্রিয় অংশ নেওয়া ।
অনুচ্ছেদ ১৪ ধারা : বিভাগীয় উপ-কমিটি :
দলের বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যক্রমে নীতিপ্রণয়ন ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় উপকমিটি গঠন করা যাবে । দলের মহাসচিব অন্যান্যদের সাথে আলোচনাক্রমে এই সকল উপকমিটি গঠন করবেন এবং দলের চেয়ারম্যান অনুমোদন প্রদান করবেন । মেয়াদ শেষে এই সব উপকমিটি আপনা আপনি বিলুপ্ত হবে ।
অনুচ্ছেদ ১৫ ধারা : শূন্য পদে অর্ন্তভূক্তি :
মৃত্যুজনিত কারণে শৃঙ্খলা বহিভূত কার্যকলাপে এবং পদত্যাগের মত শূন্য পদে দল পরিচালনা করার জন্য চেয়ারম্যান / মহাসচিব সাময়িক ভাবে যোগ্যদের দায়িত্ব দিতে পারিবেন ।
অনুচ্ছেদ ১৬ ধারা : সাংগঠনিক বিভাগ (১০টি অঞ্চল) সমন্বয় কমিটি :
প্রত্যেক বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবে । বিভাগীয় সকল জেলা , উপজেলা সাংগঠনিক তৎপরতার রির্পোট এবং কমিটি অনুমোদনে সহযোগিতা করবে ।
অনুচ্ছেদ ১৭ ধারা : প্রশাসনিক জেলা সমন্বয় কমিটি :
প্রশাসনিক জেলা পর্যায়ে একটি সমন্বয় কমিটি থাকবে যে কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা এবং জেলা পর্যায়ে দলের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং অনুরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করবে । এতে ১ (এক) জন প্রধান সমন্বয়কারী , ৩ (তিন) জন যুগ্ম-সমন্বয়কারী , ১ (এক) জন সদস্যসচিব ও জেলার প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে ৩ (তিন) জন সদস্য থাকবেন ।
অনুচ্ছেদ ১৮ ধারা : সাংগঠনিক জেলা /মহানগর /প্রবাসী কমিটি :
এ কমিটি হবে দলের কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্র । ৭১-১০১ সদস্যের একটি শক্তিশালী , গতিশীল ও কার্যকর কমিটি দ্বারা দলের এ ধাপ পরিচালিত হবে । প্রত্যেক জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের পূর্ব শর্ত হিসাবে দলের প্রাথমিক সদস্য ফর্ম পূরন করতে হবে এবং স্ব-স্ব এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করতে হবে এবং সম্মেলনের তারিখ জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করতে হবে । দেশের বাহিরে সম্ভাব্য “প্রবাসী কমিটি” অনুরূপ কমিটি গঠিত হবে এবং সম মর্যাদা লাভ করবে ।
| ১ . সভাপতি - | ১ (এক) জন | ১২ . মহিলা বিষয়ক সম্পাদক - | ৩ (তিন) জন |
| ২ . সহ-সভাপতি - | ৭ (সাত) জন | ১৩ . শিল্প সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৩ . সাধারণ সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১৪ . কৃষি সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৪ . সহযোগী সম্পাদক - | ৫ (পাঁচ) জন | ১৫ . শিক্ষা সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৫ . কোষাধ্যক্ষ - | ১ (এক) জন | ১৬ . পরিবেশ সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৬ . দফতর সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১৭ . সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৭ . সাংগঠনিক সম্পাদক - | ৩ (তিন) জন | ১৮ . ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৮ . প্রচার সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১৯ . ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৯ . সমাজকল্যাণ সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২০ . তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ১০ . ক্রীড়া সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২১ . প্রকাশনা সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ১১ . সাংস্কৃতিক সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২২ . স্বাস্থ্য সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
প্রত্যেক বিভাগীয় সম্পাদক সাধারণভাবে গঠনতন্ত্রে বর্ণিত সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন কবেন ।
অনুচ্ছেদ ১৯ ধারা : সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি :
দেশে সর্বমোট ৪৮৪টি উপজেলা রয়েছে । কোন নির্বাচনী এলাকায় একাধিক উপজেলা থাকলে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কমিটি থাকবে । এই কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ৫১-৭১ সদস্য । জেলা ও মহানগর কমিটি সক্রিয় উপস্থিতি ও অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করে উপজেলা কমিটি গঠিত হবে ।
| ১ . সভাপতি - | ১ (এক) জন | ১৩ . মহিলা বিষয়ক সম্পাদক - | ২ (দুই) জন |
| ২ . সহ-সভাপতি - | ৫ (পাঁচ) জন | ১৪ . শিল্প সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৩ . সাধারণ সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১৫ . কৃষি সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৪ . সহযোগী সম্পাদক - | ২ (দুই) জন | ১৬ . শিক্ষা সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৫ . কোষাধ্যক্ষ - | ১ (এক) জন | ১৭ . পরিবেশ সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৬ . দফতর সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১৮ . সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৭ . সাংগঠনিক সম্পাদক - | ২ (দুই) জন | ১৯ . ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৮ . প্রচার সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২০ . ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৯ . সমাজকল্যাণ সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২১ . তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ১০ . ক্রীড়া সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২২ . প্রকাশনা সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ১১ . সাংস্কৃতিক সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২৩ . স্বাস্থ্য সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ১2 . যুব বিষয়ক সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ২৪ . ছাত্র সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
এ কমিটি গঠনতন্ত্রে বর্ণিত সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে ও দায়িত্ব সম্পাদন করবে ।
অনুচ্ছেদ ২০ ধারা : ইউনিয়ন কমিটি :
ইউনিয়ন কমিটি হবে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ।
| ১ . সভাপতি - | ১ (এক) জন | ৬ . কোষাধ্যক্ষ - | ১ (এক) জন |
| ২ . সহ-সভাপতি - | ৫ (পাঁচ) জন | ৭ . সাংগঠনিক সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৩ . সাধারণ সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ৮ . প্রচার সম্পাদক - - | ১ (এক) জন |
| ৪ . সহযোগী সম্পাদক - | ২ (দুই) জন | ৯ . মহিলা সদস্য - | ৩ (তিন) জন |
| ৫ . দফতর সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১০ . সম্মানিত সদস্য - | |
অনুচ্ছেদ ২১ ধারা : ওয়ার্ড কমিটি :
ওয়ার্ড কমিটি হবে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট ।
| ১ . সভাপতি - | ১ (এক) জন | ৬ . কোষাধ্যক্ষ - | ১ (এক) জন |
| ২ . সহ-সভাপতি - | ৫ (পাঁচ) জন | ৭ . সাংগঠনিক সম্পাদক - | ১ (এক) জন |
| ৩ . সাধারণ সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ৮ . প্রচার সম্পাদক - - | ১ (এক) জন |
| ৪ . সহযোগী সম্পাদক - | ২ (দুই) জন | ৯ . মহিলা সদস্য - | ১ (এক) জন |
| ৫ . দফতর সম্পাদক - | ১ (এক) জন | ১০ . সম্মানিত সদস্য - | |
অনুচ্ছেদ ২২ ধারা : আহবায়ক কমিটি :
কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক ভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা যাবে। আহবায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ২১-৫১ পর্যন্ত । প্রয়োজনে বাড়ানো কমানো যাবে । দলের সদস্য হওয়ার নিয়মাবলী :
অনুচ্ছেদ ২৩.১ ধারা : দলের সদস্য পদ লাভের পদ্ধতি :
| ক . বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক প্রাথমিক সদস্য ফরম পুরন করে আবেদন করতে পারবেন । |
| খ . শর্ত অনুযায়ী দলের সাংগঠনিক নির্ধারিত সদস্য ফি প্রদান করিতে হইবে । |
| গ . আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে । |
| ঘ . স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী হতে হবে । |
| ঙ . তাঁকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, অর্থাৎ দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র পড়তে ও বুঝতে সক্ষম হতে হবে । |
| চ . তাঁকে দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মসূচী ও লক্ষ্যে আস্থা স্থাপন করতে হবে এবং দলের ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করতে হবে । |
| ছ . প্রাথমিক সদস্য ফি ১০০ টাকা হইবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ সকল স্তরের কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ধার্যকৃত চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন । |
অনুচ্ছেদ ২৩.২ ধারা : নির্ধারিত চাঁদা ও সদস্য নবায়ন :
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্যরা নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন । তিন মাসের চাঁদা বকেয়া হলে তিনি প্রাথমিক সদস্যপদ হারাবেন এবং অতিরিক্ত পাঁচশত টাকা প্রদান করে সদস্যপদ নবায়ন করবেন । এককালীন ছয় মাস বকেয়া হইলে স্থায়ী ভাবে তিনি বহিস্কৃত হবেন ।
অনুচ্ছেদ ২৩.৩ ধারা : সদস্যপদের মেয়াদ ও পদত্যাগ :
সদস্যপদের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিকে ধরে নেয়া হবে যে, বিপরীতে কিছু না ঘটলে তিনি আজীবনের জন্য সদস্যপদ প্রাপ্ত হয়েছেন । কোন সদস্য দলের সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি / সম্পাদকের বরাবরে সাদা কাগজে দরখাস্ত দিয়ে সদস্যপদ ত্যাগ করতে পারবেন । কোন সদস্য যদি স্বেচ্ছায় দল ছেড়ে চলে যান কিংবা দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেন কিংবা দলের স্বার্থ-বিরোধী কাজ করেন সেসব ক্ষেত্রে তিনি সদস্যপদ হারাবেন ।
অনুচ্ছেদ ২৩.৪ ধারা : সদস্যপদের অযোগ্যতা :
কোন ব্যক্তির বয়স ১৮ (আঠার) বছরের কম হলে , বাংলাদেশের নাগরিক না হলে , উন্মাদ ও অপ্রকৃতিস্থ হলে , ফৌজদারী অপরাধে শাস্তি হওয়ার পর ২ (দুই) বছর সময় অতিক্রান্ত না হলে , উপযুক্ত কোন কর্তৃপক্ষ দ্বারা নৈতিকস্থলনের দায়ে দন্ডিত হলে , দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর প্রতি এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা না থাকলে সদস্যপদের অযোগ্য বিবেচিত হবেন ।
অনুচ্ছেদ ২৪ . ধারা : দলীয় তহবিল :
২৪.১ তহবিল উৎস :
বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের চাঁদা , শুভানুধ্যায়ীদের প্রকাশ্য দান , বিশেষ কর্মসূচির জন্য সাধারন মানুষের নিকট থেকে প্রকাশ্যে সংগৃহীত স্বেচ্ছাপ্রদত্ত চাঁদা প্রভৃতি উৎস থেকে তহবিল গঠিত হবে ।
২৪.২ তহবিলের ব্যবস্থাপনা :
দলের চেয়ারম্যান , মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ যৌথভাবে যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে দলের তহবিলের হিসাব রাখবেন । চেয়ারম্যানের জ্ঞাতসারে দলের মহাসচিব ও যুগ্ম স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাবে । আয়ের উৎসসমূহ ও ব্যয়ের খাতসমূহ প্রমাণসহ নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে । প্রতি বছর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয় এমন অডিট ফার্ম দ্বারা ফান্ড অডিট করাতে হবে এবং দলের নির্বাহী কমিটির সভায় বোধগম্য করে তা পেশ করতে হবে । আয়-ব্যয়ের ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে । এ ব্যাপারে পূর্ণ পেশাদারী নিয়ম অনুসরণ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ শৃংখলা মেনে চলতে হবে ।
অনুচ্ছেদ ২৫ . ধারা : দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠ :
প্রত্যেক পেশাজীবী গোষ্ঠী যেমন- কৃষক, শ্রমিক, যুবক, ছাত্র, মহিলা, বিশেষায়িত গোষ্ঠী যেমন- পাটকল শ্রমিক, পোশাক শিল্প শ্রমিক, মৎসজীবী স¤প্রদায়, তাঁতী প্রভৃতি পেশাগত গোষ্ঠীর মধ্যে দলের শাখা থাকবে ।
অনুচ্ছেদ ২৬ . ধারা : দলের সহযোগী সংগঠন :
আইনজীবী , ডাক্তার , শিক্ষক , শিল্পী-সাহিত্যিক , ব্যাংকার , বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে যারা দলের আদর্শ উদ্দেশ্যের প্রতি আস্থা স্থাপন করবেন যাচাই বাছাই-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে তাঁদেরকে দলের সহযোগী সংগঠনের সাথে অন্তর্ভূক্ত করা হবে ।
অনুচ্ছেদ ২৭ ধারা : দলীয় সংসদীয় পার্টি :
দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ সংসদীয় পার্টি সদস্য হবেন । সাধারণভাবে সকল বিষয়ে সময়ে সময়ে বিশেষ বিষয়ে দলীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংসদের অবস্থান গ্রহণ ও ভূমিকা পালন , দলীয় লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংসদে ভূমিকা গ্রহণ , দলীয় শৃঙ্খলার অনুসরণ , দলীয় ভাবধারা ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকা বা আচরণের মধ্যে সাজুয্য রক্ষা করা এই পাটির কর্মপরিধির অন্তর্ভুক্ত থাকবে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব এই পাটির সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং তাঁদের চিন্তা ও মতামত সংসদীয় পার্টিতে গুরুত্ব পাবে । দলের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সংসদীয় পার্টির নেতা , উপনেতা , চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের নির্বাচিত করবেন ।
অনুচ্ছেদ ২৮ ধারা : দলের সংসদীয় বোর্ড :
দলের একটি সংসদীয় বোর্ড থাকবে । দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভূক্ত করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এই বোর্ড গঠন করবে । জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এ বোর্ড গঠিত হবে এবং দলের সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য হতে ৩০০ আসনের জন্য এই বোর্ড প্রার্থী বাছাই ও চুড়ান্ত করবে ।
অনুচ্ছেদ ২৯ ধারা : বর্ধিত সভা :
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিংবা জরুরি কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঘোষণাপত্র বা গঠনতন্ত্রের সংশোধন কিংবা দলের নীতি আদর্শে পুরনো কোন বিষয় বর্জন কিংবা নতুন কোন বিষয় অন্তর্ভূক্তির মত পরিস্থিতি দেখা দিলে চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে কিংবা মহাসচিবের পরামর্শ ও সভাপতির সম্মতিক্রমে মহাসচিব দলের বর্ধিত সভা আহ্ববান করবেন । বর্ধিত সভার নোটিশ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে এবং জেলা , সাংগঠনিক জেলা , উপজেলা ও অধঃস্তন কমিটির সদস্যগণকে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে ঘোষণার মাধ্যমেঅবহিত করতে হবে । ন্যূনতমপক্ষে ৭ (সাত) দিনের নোটিশে এ সভা আহ্ববান করতে হবে । এ সভায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অনুমোদনক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে ।
অনুচ্ছেদ ৩০ ধারা : তলবী সভা :
তলবী সভা সাধারণ কোন সভা নয় । দল বিশেষ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তলবী সভার , (Requisitin Meetin) প্রয়োজন দেখা দেয় । দলের চেয়ারম্যান , কিংবা মহাসচিব আলাদাভাবে কিংবা দুজনে যুগপৎভাবে যদি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের কৌশল নির্ধারণ ও কর্মসূচি গ্রহণ কিংবা বিশেষ কোন পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবিলা করা হবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মত অনেক বিষয় সামনে আসা সত্তেও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকতে ব্যর্থ হন এবং সেবব বিষয়ে দল যথাসময়ে উপযুক্ত ও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেনি এবং সাথে দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির এক তৃতীয়াংশ সদস্য তলবী বা Requisitin এর মাধ্যমে সভা ডাকতে পারবেন । এ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করা হবে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি তা অনুমোদন করে তাহলে সে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে ধরে নিতে হবে । তলবী সভার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ গরিষ্ঠ সদস্যদের অনুমোদন লাভে ব্যর্থ হলে তা নাকচ হয়ে যাবে ।
অনুচ্ছেদ ৩১ ধারা : নিয়ম-শৃংখলা :
দলের প্রত্যেক নেতা, কর্মী ও সদস্য দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচিতে পূর্ণ আস্থা রাখবেন, দলের কর্মসূচি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিবেদিত প্রাণ থাকবেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন এবং দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র - বিরোধী কথা বলবেন না এবং কাজ করবেন না । যদি করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে । শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী যে কমিটির আওতায় কাজ করেন সে কমিটি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নিকট পেশ করবেন । কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিয়ে তা চূড়ান্ত করবেন । তবে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ৭ (সাত) দিন সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করতে হবে ।
অনুচ্ছেদ ৩২.১ ধারা : নির্বাচন পদ্ধতি :
ঐকমত্য থাকলে এবং চেয়ারম্যান / মহাসচিব পদে একাধিক প্রার্থী না থাকলে একমাত্র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে । প্রতিদ্বন্ধী থাকলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে । যে প্রার্থী সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন নির্বাচন কমিশন তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন । সহ-সভাপতি ও মহাসচিবসহ অপরাপর কর্মকর্তা জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে নির্বাচিত হবেন । কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত একটি সাবজেক্ট কমিটি চেয়ারম্যানের পদ ব্যতীত অন্য সকল পদে একটি প্যানেল উপস্থাপন করবেন । ঐ প্যানেল যদি প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাভ করে তবে প্যানেলটি নির্বাচিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে এবং নির্বাচন কমিশন সে প্যানেলকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন । কোন প্রতিনিধি বা একাধিক প্রতিনিধি সাবজেক্ট কমিটি প্রস্তাবিত ব্যক্তির বাইরে কোন একটি বা একাধিক পদের ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন । এরূপ ক্ষেত্রে সাবজেক্ট কমিটি যদি নির্দিষ্ট পদে বা পদসমূহে সাবজেক্ট কমিটি প্রস্তাবিত নামের বদলে প্রস্তাবিত নতুন নাম বা নামসমূহ মেনে নেন সেক্ষেত্রে সাবজেক্ট কমিটি নতুন নাম বা নামসমূহ অন্তর্ভূক্ত করে তার প্যানেল নতুন করে প্রস্তুত করে পেশ করবে । আর যদি সাবজেক্ট কমিটি তা গ্রহণ করে না নেয় সেক্ষেত্রে নতুন নাম বা নামসমূহের পদে গোপন ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে সদস্য বা যেসব সদস্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট লাভ করবেন তিনি বা তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবেন । সমান সমান ভোটের ক্ষেত্রে সকল অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন তিনি গঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বলে বিবেচিত হবেন । নির্বাচন কমিশন তার কাজে সহায়তার জন্য নিজ সিদ্ধান্তে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্য থেকে নির্বাচন সহযোগী নিয়োগ করতে পারবেন । নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেলে এসব সহযোগীর কার্যকাল ফুরিয়ে যাবে ।
অনুচ্ছেদ ৩২.২ ধারা : নির্বাচক মন্ডলী :
সকল কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক পদাধিকার বলে নির্বাচনে Delegate বা প্রতিনিধি থাকবেন তারাই কাউন্সিলর হিসাবে পরিচিত হবেন । এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির নিম্নের সকল কমিটির আওতাধীন কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে প্রতি দশজনে এক (১) জন ও ভগ্নাংশের জন্য এক (১) জন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনের জন্য Delegate বা প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হবেন । কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন / নির্বাচনে এরা ভোট দেবেন । ওয়ার্ড ও নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি এলাকার সাধারণ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হবেন । ইউনিয়ন কমিটি গ্রাম কমিটিসমূহ্নের সভাপতি ও সম্পাদক এবং নির্বাচকদের ভোটে নির্বাচিত হবেন এবং উর্দ্ধতন কমিটিসমূহ অনুরূপ পদ্ধতিতে নিম্নতর কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক এবং রীতি অনুযায়ী নির্বাচিত Delegate দের ভোটে নির্বাচিত হবেন ।
অনুচ্ছেদ ৩৩ ধারা : দলীয় নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল :
দলের স্থায়ী কমিটি কর্তৃক উপদেষ্টামন্ডলী থেকে তিন সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে । নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীদের কারো অভিযোগ থাকলে তিনি দলীয় নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন । ট্রাইব্যুনালের রায় এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে ।
অনুচ্ছেদ ৩৪. ধারা : সভা , নোটিশ , কোরাম :
ক . জাতীয় কাউন্সিলঃ দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহবান করতে পারবেন। কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়ংশ সদস্য কাউন্সলে সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে, সাধারণ ডাকে কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ১৫ (পনের) দিনের নোটিশে বছরে অন্তত এবার জাতীয় কাউন্সিলে মিলিত হবে। অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ৫ (পাঁচ) দিনের নোটিশে কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে। জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশের দাবিতে অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ১৫ (পনের) দিনের নোটিশ কাউন্সিলের তাগিদ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে । এ সভার নোটিশে তাগিদের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে ।
খ . জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাঃ দলের চেয়ারম্যান সাধারণভাবে ০৩ মাসে অন্তত একবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহবান করবেন । তবে চেয়ারম্যান প্রয়োজন বোধে যে কোন সময় সভা আহবান করতে পারবেন । মোট সদস্যের অর্ধেক সদস্য নিয়ে কমিটির কোরাম গঠিত হবে ।
গ . কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহবান করতে পারবেন । কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা (এক তৃতীয়াংশ) সদস্য উক্ত কমিটির সভার কোরাম গঠন করবে । লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ৭ (সাত) দিনের নোটিশে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহবান করা যেতে পারে । মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ সদস্যের দাবিতে এবং সুস্পষ্ট ৭ (সাত) দিনের নোটিশে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভার তাগিদ দেয়া যেতে পারে । সকল পর্যায়ের এ সমস্ত নির্বাহী ও আহবায়ক কমিটির সভার কোরাম সংশ্লিষ্ট কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে ।
অনুচ্ছেদ ৩৫ ধারা : বিধি ও উপবিধি :
যেক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান নাই , কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটি সেক্ষেত্রে বিধি ও উপবিধি প্রণয়ন করতে পারবে ।
অনুচ্ছেদ ৩৬ ধারা : গঠনতন্ত্র সংশোধন :
জাতীয় কাউন্সিলের যে কোন সদস্য লিখিতভাবে গঠনতন্ত্রের সংশোধনের প্রস্তাব করতে পারবেন। উক্ত প্রস্তাব দলের মহাসচিবের নিকট প্রেরণ করতে হবে যাতে মহাসচিব প্রস্তাবটি জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় পেশ করতে পারেন , তবে :
১ . প্রস্তাবিত সংশোধনী যে সভায় বিবেচিত হবে সে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্তত ৭ (সাত) দিন আগে জাতীয় কাউন্সিলের সকল সদস্যের মধ্যে প্রস্তাবের কপি বিতরণ করতে হবে। সভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন পেলে সংশোধনটি গৃহীত বা অনুমোদিত হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
২ . অনিবার্য কারণে যদি সংশোধনী প্রয়োজন হয়ে পড়ে দলের স্থায়ী কমিটি সাময়িকভাবে সে সংশোধনী করতে পারবেন । তবে অন্যূন ৬ (ছয়) সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আহবান করে সাধারণ বিধি মাফিক এ সংশোধনী অনুমোদন করে নিতে হবে ।